Skip to main content
 

আমাদের কথা

খুলনা জেলার নামকরণ এবং ইতিহাসঃ  

সুন্দরবনের সুন্দরী কন্যা, ভৈরব রূপসা বিধৌত আজকের খুলনা।

হয়রত খান জাহান আলীর প্রতিষ্ঠিত ‘কিসমত খুলনা’ থেকে ‘খুলনা’ নাকি ধনপতি সওদাগরের স্ত্রীর প্রতিষ্ঠিত ‘খুলনেশ্বরী’ মন্দিরের নাম থেকে এই ‘খুলনা’ নাকি ১৭৬৬ সালে নিমজ্জিত জাহাজ ‘Falmouth’ থেকে উদ্ধারকৃত রেকর্ড থেকে প্রাপ্ত ‘Culna’ শব্দ থেকে আজকের ‘খুলনা’ জেলার নামকরণের উৎপত্তি তা নিয়ে নানাবিধ মতামত রয়েছে। কিন্তু খুলনা যে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মহকুমা – এই বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই এবং এই খুলনাকেই অতীতের মানচিত্রে Jessore-Culna নামে দেখানো হয়েছে।  

১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাকে নিয়ে খুলনা মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া খুলনা ছিলো যশোর জেলার চারটি থানার অন্যতম একটি থানা। তখন এর নাম ছিলো ‘নয়াবাদ’। খুলনা জেলার পত্তন হয় ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে, উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট, যশোর জেলার নড়াইল ও খুলনা সদর মহকুমার সমন্বয়ে। পরবর্তীতে ১৯৬০ সালে খুলনা বিভাগ গঠন করা হয়।

খুলনার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৮৯১ সালের পুরাতন আদালত ভবন, জেলা প্রশাসকের শতাব্দী প্রাচীন কার্যালয় এবং বিভিন্ন মসজিদ মন্দির এই ইতিহাসে নীরব সাক্ষী।

বাংলাদেশের অন্যতম বন্দর ও শিল্প নগরী খুলনা যেখান থেকেই ১৯১২ সালে নদীপথে স্টিমার চলাচল শুরু হয়। জাহাজ নির্মাণ শিল্পে খুলনার সুনাম দেশের গন্ডি ছড়িয়ে বিশ্বব্যাপী। কারণ, খুলনা শিপইয়ার্ডে অত্যাধুনিক ত্রিমাত্রিক নৌযুদ্ধ জাহাজ সহ বিভিন্ন জাহাজ নির্মিত হচ্ছে।  

খুলনা সুন্দরবনের সবুজে আবৃত। খুলনাকে বলা হয় সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার। বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই । শুধু এটুকু বলা যায়, সৌন্দর্য আর শত প্রজাতির বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ছাড়াও সুন্দরবন দূর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশের জন্য প্রকৃতি প্রদত্ত রক্ষাকবচ।

হোয়াইট গোল্ড নামে পরিচিত চিংড়ির স্বর্গরাজ্য খুলনা। এছাড়া নানা প্রজাতির মাছ উৎপাদন করে খুলনা মিটাচ্ছে জাতীয় আমিষের বিশেষ চাহিদা।

জেলা জজ আদালত, খুলনার ইতিহাসঃ  

১৮৮২ সালে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার পরপরই বর্তমান জেলা জজ আদালতের পূর্বদিকে একটা ঘরে প্রথম মুন্সেফ কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রথম মুন্সেফ কে ছিলেন, তাঁর নাম কালের অতল অন্ধকারে চিরতরে হারিয়ে গেছে। ১৮৯১ সালে অত্যাচারী জমিদার হিসেবে পরিচিত জুনিয়র রাড রেইনী বর্তমান জীর্ণ লাল আদালত ভবনের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং এখানে একটা টাওয়ারে তৎকালীন সময়ে ভীষণ প্রচলিত ও আভিজাত্যের প্রতীক ‘Ellott Clock’ স্থাপন করেন। এই লাল দালানে চলতে থাকে মুন্সেফ আদালতের বিচার কার্যক্রম। এরপর সার্কিট কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হলে একজন সাব জজ পদমর্যাদার বিচারক মাঝে মাঝে খুলনা জেলাতে আসতেন। প্রথম সাব জজের নাম ছিলো শ্রী ভগবান চক্রবর্তী রায় বাহাদুর।  

এরপর ১৯০৮ সালে খুলনাতে প্রথম জেলা জজ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে ০১-০৭-১৯০৮ তারিখে যোগদান করেন মি. শশীভূষণ চৌধুরী। ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে ০৪/১০/১৯৪৭ তারিখে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদান করেন মিঃ নওয়াবজাদা এ, এস, এস, লতিফুর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষনার পর ০২/০৭/১৯৭১ তারিখে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদান করেন মিঃ কে, এক, আকবর। মিঃ বদরুল ইসলাম চৌধুরী ছিলেন বৃহত্তর খুলনা জেলার প্রথম জেলা ও দায়রা জজ, যিনি ১৩/১১/১৯৮৩ তারিখে যোগদান করেন।  

জেলা জজ আদালত, খুলনা এর আদালত সমূহঃ  

বর্তমান যে চারতলা ভবনে জেলা জজ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা ২০০৫ সালে নির্মিত। এর পাশাপাশি ১৮৯১ সালে নির্মিত প্রাচীন একতলা লাল ভবনেও অনেকগুলো আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এখনো। খুলনাতে চারটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, চারটি যুগ্ম জেলা জজ  আদালত,  পাঁচটি সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, তিনটি সহকারী জজ আদালত এবং দুই চৌকি আদালত আছে। এছাড়া একটি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও একটি অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫১,২০০ টি দেওয়ানী মোকদ্দমা ও ৩,৯৭১ টি ফৌজদারী মামলা বিচারাধীন আছে।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, খুলনা স্থাপন ও আদালত সমূহঃ 

২০০৭ সালের ১লা নভেম্বর খুলনাতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠিত হয় বিচার বিভাগ পৃথিকীকরণের সমুজ্জ্বল ইতিহাসের অংশ হিসেবে। প্রথম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন জনাব মোঃ মসিউর রহমান চৌধুরী। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দৃষ্টিনন্দন দশ তলা ভবন নির্মাণ শেষ হয় ২০১৫ সালে এবং তখন থেকেই এই ভবনে অত্র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর সকল বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে খুলনা জেলায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ছাড়াও, একটি অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, তিনটি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, চারটি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দুটি চৌকি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আছে। এছাড়া একটি বিদ্যুৎ আদালতের কার্যক্রম বিদ্যমান। বর্তমানে অত্র আদালতে ৬,১৬৭ টি মামলা বিচারাধীন আছে।  

 

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসঃ

খুলনা জেলায় একটি লিগ্যাল এইড অফিস রয়েছে। এখানে দুস্থ দরিদ্র মানুষকে বিনা খরচে আইনী সেবা প্রদান, বিরোধ নিষ্পত্তিসহ আইনী পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৫ম তলায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে মাতৃদুগ্ধ কর্ণার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

 

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতিঃ

 

খুলনা জেলার আইনজীবী সমিতির ইতিহাস অতি পুরাতন এবং সমৃদ্ধ। জেলা আইনজীবী ভবন স্থাপিত হয় ১৮৮৪ সালে। প্রথম আইনজীবী ছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া থানার শেখ মোহাম্মদ সায়েম। বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী বারে ১৫৭৩ জন তালিকাভূক্ত আইনজীবী রয়েছেন।

 

 

প্রস্তুতকরণেঃ

বেগম ইসরাত জাহান

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, খুলনা

 

বেগম তাকিয়া সুলতানা

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, খুলনা

 

বেগম ইয়াসমিন নাহার

সিনিয়র সহকারী জজ, খুলনা

.